অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর টেস্ট খেলতে নেমে সিরিজ ১–১ সমতায় শেষ করল বাংলাদেশ। ডারউইনে ঐতিহাসিক জয় পাওয়ার পর ম্যাকাই টেস্টে দুই দিনেই ইনিংস ও ৫১ রানে হেরে গেল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তবে সিরিজের প্রথম টেস্টের জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ম্যাকাইয়ে দুই দিনেই ম্যাচ শেষ
ম্যাকাই টেস্টে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। শুরু থেকেই বোলারদের সহায়তা পাওয়া কন্ডিশনে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা দুই ইনিংসেই চরম ব্যর্থ হন।
প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে অস্ট্রেলিয়া বড় লিড গড়ে। দ্বিতীয় ইনিংসেও বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের চিত্র বদলায়নি।
মাত্র ৯৫ রানে অলআউট হয়ে যায় দলটি।
ফলে ইনিংস ও ৫১ রানে জয় পায় অস্ট্রেলিয়া।
এটি বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো টেস্টের দুই ইনিংসেই এক
শর নিচে অলআউট হওয়ার ঘটনা।
বাংলাদেশের একমাত্র বড় প্রাপ্তি শরীফুল
ব্যাটিং ব্যর্থতার মাঝে বাংলাদেশের হয়ে উজ্জ্বল ছিলেন পেসার শরীফুল ইসলাম। দুই ইনিংস মিলিয়ে তিনি তুলে নেন ৭ উইকেট।
তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদের সঙ্গে শরীফুলের বোলিং অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদেরও চাপে রেখেছিল। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের পেসারদের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন।
বাড়তি বাউন্স ও বাতাসে সুইং ছিল চ্যালেঞ্জ
ম্যাচ শেষে ম্যাকাই ও ডারউইনের কন্ডিশনের পার্থক্য নিয়ে কথা বলেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
তিনি জানান, ম্যাকাইয়ে বাড়তি বাউন্সের পাশাপাশি বাতাসে সুইং ছিল
বাংলাদেশের জন্য এটি ছিল কঠিন এক চ্যালেঞ্জ। তবে এমন কন্ডিশনে নিয়মিত খেলার সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে দল আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।
শান্তর মতে, অস্ট্রেলিয়ার মতো কন্ডিশনে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিংয়ে হতাশ বাংলাদেশ
অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ ১৪৬ রানের বড় ঘাটতি নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটে।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা থিতু হওয়ার পর ডাউন দ্য উইকেটে এসে লং-অফে ক্যাচ দেন। তানজিদ হাসান হুক করতে গিয়ে আউট হন। লিটন দাস ১০ বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি।
মেহেদী হাসান মিরাজও কামিন্সের তুলনামূলক নিরীহ একটি ডেলিভারিতে ক্যাচ দেন।
অন্যদিকে এক প্রান্ত আগলে লড়াই চালিয়ে যান মুশফিকুর রহিম
৮০ বল মোকাবিলা করে তিনি ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন।
চা-বিরতির পর প্রথম বলেই তাসকিন আহমেদ স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে বাংলাদেশের ইনিংস হারের আনুষ্ঠানিকতা বাকি থাকে মাত্র এক উইকেট।
কামিন্সের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়ার দুর্দান্ত ঘুরে দাঁড়ানো
ডারউইন টেস্টে ৯ উইকেটে হারের পর ম্যাকাইয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
পুরস্কার বিতরণীতে অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বলেন, আগের টেস্টে অনেক কিছুই তাদের পক্ষে যায়নি। তবে ম্যাকাইয়ে দলের খেলোয়াড়রা নিজেদের পরিকল্পনা কার্যকর করতে পেরেছেন।
প্রথম সেশনেই বাংলাদেশের পাঁচ উইকেট তুলে নেওয়াকে ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত
তাঁর মতে, ম্যাচের প্রথম এক-দুই ঘণ্টা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারলে পুরো ম্যাচের গতিপথ অনেকটাই নির্ধারিত হয়ে যায়।
স্টার্কের চোখে ভালো একটি সপ্তাহ
অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্কও সিরিজের দুই টেস্টের পার্থক্য তুলে ধরেছেন।
ডারউইনে বাংলাদেশ খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছিল বলে তাদের কৃতিত্ব দিয়েছেন স্টার্ক। তবে ম্যাকাইয়ের বোলিং সহায়ক উইকেটে অস্ট্রেলিয়া নিজেদের কাছ থেকে যে পারফরম্যান্স চেয়েছিল, সেটি করতে পেরেছে বলে মনে করেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত সিরিজ ১–১ সমতায় শেষ হওয়াকে অস্ট্রেলিয়ার জন্য ভালো একটি সপ্তাহ হিসেবেই দেখছেন স্টার্ক।
সিরিজে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্জন ডারউইনের জয়
ম্যাকাইয়ের হতাশাজনক পরাজয় সত্ত্বেও বাংলাদেশের জন্য পুরো সিরিজটি ইতিবাচক দিকও রেখে গেছে।
২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে ডারউইনে স্বাগতিকদের হারানো ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অর্জন। মাত্র দুই ম্যাচের সিরিজে একটি জয় ও একটি হার নিয়ে দেশে ফিরছে বাংলাদেশ।
নাজমুল হোসেন শান্তর মতে, এমন কন্ডিশনে নিয়মিত খেলার সুযোগ পেলে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা আরও বাড়বে। দীর্ঘ বিরতির পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে মাত্র দুটি টেস্ট খেলে কন্ডিশনের সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে নেওয়া কঠিন—তবে এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কাজে দেবে।
শেষ কথা
ম্যাকাই টেস্টের ফল বাংলাদেশের জন্য হতাশার হলেও সিরিজের সামগ্রিক চিত্র একেবারে নেতিবাচক নয়। ডারউইনে ঐতিহাসিক জয় এবং ম্যাকাইয়ে কঠিন কন্ডিশনের অভিজ্ঞতা—দুটি ঘটনাই বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হয়ে থাকবে।
বাংলাদেশ–অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজ শেষ হলো ১–১ সমতায়
ডারউইনের ঐতিহাসিক জয়টি যেমন আত্মবিশ্বাস বাড়াবে, তেমনি ম্যাকাইয়ের ব্যাটিং ব্যর্থতা সামনে রেখে উন্নতির জায়গাগুলোও নতুন করে ভাবতে হবে।
আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত থাকুন।