মালয়েশিয়ায় ২১৮ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে।

কালবার্তা নিউজ

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের চেরাস এলাকায় অবস্থিত তামান মালুরি এলাকায় বিশেষ ইমিগ্রেশন অভিযান চালিয়ে মোট ২১৮ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ৫৬ জন বাংলাদেশি রয়েছে। এই অভিযানটি স্থানীয় ও জাতীয় স্তরের সমন্বিত উদ্যোগে পরিচালিত হয়েছে এবং মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসন রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ হিসেবে মূল্যায়িত হয়েছে।

অভিযান পরিচালনায় অংশ নিয়েছে ২৭৯ জন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা এবং ১০ জন জাতীয় নিবন্ধন (জেপিএন) কর্মকর্তা। তারা চেরাসের বাণিজ্যিক এলাকা, আবাসিক এলাকা এবং শিল্প এলাকা পর্যায়ক্রমে তল্লাশি চালান। অভিযানে অবৈধভাবে বসবাসকারী এবং বৈধ পরিচয়পত্রবিহীন ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের দেশভিত্তিক সংখ্যা নিম্নরূপ:

  • মিয়ানমার: ৭৮ জন
  • বাংলাদেশ: ৫৬ জন
  • ইন্দোনেশিয়া: ৪৪ জন
  • নাইজেরিয়া: ১২ জন
  • নেপাল: ১০ জন
  • ভারত: ৫ জন
  • শ্রীলঙ্কা: ৪ জন
  • অন্যান্য দেশ: ৯ জন

এই অভিযান মূলত ইমিগ্রেশন আইনের লঙ্ঘন, অবৈধ অবস্থান, বৈধ পরিচয়পত্রের অভাব, পাস শর্ত ভঙ্গ এবং স্বীকৃত নয় এমন পরিচয়পত্র বহনের অভিযোগে পরিচালিত হয়েছে। আইন অনুযায়ী আটক ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ ও নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে। মালয়েশিয়ার আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মামলা দায়ের এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন:
উত্তরায় বাবার সামনে মেয়েকে অপহরণ করা প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মালয়েশিয়ায় নিয়মিতভাবে এই ধরনের অভিযান পরিচালনা হওয়া জরুরি, কারণ এটি দেশটির নিরাপত্তা, শ্রম বাজার এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অবৈধ অভিবাসীরা কখনও কখনও মানবপাচার চক্রের শিকার হয় এবং নিয়মিত নিয়ন্ত্রণের অভাবে তাদের কাজে ঝুঁকি থাকে।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং সমস্ত অবৈধ অভিবাসী শনাক্তকরণের পাশাপাশি মানবপাচার প্রতিরোধে সজাগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া, নিয়মিত জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বৈধ পাসপোর্ট ও অনুমতি নথি যাচাই করা তাদের প্রধান লক্ষ্য।

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশিরা সাধারণত বৈধভাবে কাজ করতে বা বসবাস করতে আসে, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে অবৈধভাবে দীর্ঘ সময় অবস্থান এবং অনিয়মিত নথিপত্র ব্যবহারের কারণে এই ধরনের অভিযান পরিচালিত হয়। এটি বাংলাদেশি সম্প্রদায়কে সতর্ক করার পাশাপাশি অন্যান্য দেশের নাগরিকদেরও আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করে।