কালবার্তা নিউজ, ঢাকা:
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তা নদী দীর্ঘদিন ধরে পানি ব্যবস্থাপনা এবং ভাঙন সমস্যার কারণে কৃষি, পরিবহন ও বসতি ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। এই সমস্যা সমাধানে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নামে একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারত ছাড়া এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করা অনেক কঠিন হবে। তারা বলছেন, যদিও বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়ন ব্যবস্থায় কাজ শুরু করা সম্ভব, তবে প্রকল্পটি আরও কার্যকর এবং দীর্ঘস্থায়ীভাবে পরিচালনার জন্য ভারতের অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
তিস্তা নদী ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। শুষ্ক মৌসুমে ভারতের গজলডোবা বাঁধের কারণে নদীর পানি কমে যায়, যা স্থানীয় কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি ঢলে আসে, ফলে নদীর ভাঙন বেড়ে যায় এবং গ্রামের বসতি ও ফসলের ক্ষতি হয়।
মহাপরিকল্পনার মোট ব্যয় প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। এটি শুধুমাত্র নদী ভাঙন রোধে নয়, বরং বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায়ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
১৯৮৩ সালের চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের জন্য তিস্তায় নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি বরাদ্দের কথা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরোধিতার কারণে নতুন সমান ভাগের খসড়া চুক্তি এখনও কার্যকর হয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রকল্পের পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ থাকলেও ভারতের সহযোগিতা ছাড়া প্রকল্পের সম্পূর্ণ সাফল্য কঠিন।
|
আরও পড়ুন:
|
পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভারতের পাশাপাশি চীন ও বিশ্বব্যাংকসহ বহুপাক্ষিক অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিলে তা দ্রুত এবং স্থায়ীভাবে ফলপ্রসূ হবে।
উদ্বুদ্ধ বিশ্লেষকরা আরও বলেছেন, “এই প্রকল্প শুধু নদীর পানি ব্যবস্থাপনা নয়, এটি এলাকার অর্থনীতি, কৃষি ও বাসিন্দাদের জীবনের ওপর দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলে। ভারতের অংশগ্রহণ ছাড়া প্রকল্পটি আংশিক বাস্তবায়নই সম্ভব।”
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের পরিবেশ, অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ, যা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজনীতি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং স্থানীয় কার্যক্রমের সমন্বয় অপরিহার্য।
উৎস: কালবার্তা নিউজ
আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত থাকুন।