কালবার্তা নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতা ও নির্যাতনের বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটে পরিচিত মানুষের মাধ্যমে—এমন তথ্য উঠে এসেছে বিভিন্ন গবেষণা ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবেদনে। আত্মীয়, প্রতিবেশী কিংবা পরিবারের পরিচিত মানুষদের অন্ধ বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই অনেক সময় শিশুদের টার্গেট করা হয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি রাজধানীর একটি ঘটনায় নতুন করে শিশু নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এসেছে। বিশেষ করে মেয়েশিশুরা ঘরে-বাইরে কতটা নিরাপদ এবং অভিভাবকদের কীভাবে সতর্ক থাকতে হবে—তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
|
আরও পড়ুন:
|
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের আচরণে কিছু পরিবর্তন দেখা দিলে সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। কারণ অনেক শিশু ভয়, লজ্জা বা হুমকির কারণে নির্যাতনের কথা সরাসরি বলতে পারে না।
যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হতে হবে
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হঠাৎ করে শিশুর আচরণে নিচের পরিবর্তনগুলো দেখা গেলে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন—
- অস্বাভাবিক ভয় বা আতঙ্কে থাকা
- নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা জায়গা এড়িয়ে চলা
- রাতে ঘুমের সমস্যা বা দুঃস্বপ্ন দেখা
- হঠাৎ খিটখিটে বা আক্রমণাত্মক আচরণ
- পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে যাওয়া
- স্কুলে যেতে না চাওয়া
- একাকী থাকতে চাওয়া
- আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া
- অকারণ শারীরিক ব্যথা বা অসুস্থতা
- অস্বস্তিকর স্পর্শে ভয় পাওয়া
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব লক্ষণ দেখা গেলে শিশুকে ভয় দেখানো বা চাপ দেওয়ার পরিবর্তে তার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণভাবে কথা বলতে হবে এবং তাকে নিরাপদ অনুভব করাতে হবে।
শিশু অধিকারকর্মীদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরাধীরা সম্পূর্ণ অপরিচিত কেউ নয়। বরং পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী বা নিয়মিত যাতায়াতকারী পরিচিত ব্যক্তিরাই শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতার সঙ্গে জড়িত থাকে।
পরিচিত মানুষই বড় ঝুঁকি
তাদের ভাষায়, পারিবারিক বিশ্বাস ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে ব্যবহার করেই অনেক অপরাধ সংঘটিত হয়। এজন্য শুধু অপরিচিত নয়, পরিচিত মানুষের ক্ষেত্রেও সচেতন নজরদারি প্রয়োজন।
অভিভাবকদের করণীয় কী?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী—
- শিশু কোথায় যাচ্ছে এবং কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে, সে বিষয়ে খোঁজ রাখা
- শিশুদের ছোটবেলা থেকেই “গুড টাচ” ও “ব্যাড টাচ” সম্পর্কে ধারণা দেওয়া
- শরীরের ব্যক্তিগত অংশ সম্পর্কে বয়স উপযোগী শিক্ষা দেওয়া
- অস্বস্তিকর আচরণ হলে ‘না’ বলতে শেখানো
- শিশুর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা
- প্রয়োজনে কাউন্সেলর বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া
|
আরও পড়ুন:
|
আইন আছে, বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন
বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০’ রয়েছে। আইনে ধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা এবং নির্যাতনের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান থাকলেও মানবাধিকারকর্মীদের মতে, বাস্তবায়নের ঘাটতির কারণেই অনেক ক্ষেত্রে বিচার বিলম্বিত হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশু নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, স্কুল, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাও জরুরি।
কালবার্তা নিউজ
আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত থাকুন।