ইরানে নারী-পুরুষ সবাইকে অস্ত্র প্রশিক্ষণ, বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা

ইরানে সাধারণ নাগরিকদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ | কালবার্তা নিউজ
ইরানে অস্ত্র প্রশিক্ষণ

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বাড়ছে। সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের আশঙ্কায় ইরানজুড়ে সাধারণ নাগরিকদের প্রাথমিক অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে নারী, পুরুষ ও তরুণদের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের মৌলিক ধারণা দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে হাফতে তির স্কয়ার, ভানক স্কয়ার ও তাজরিশ স্কয়ারের মতো ব্যস্ত এলাকাগুলোতে অস্থায়ী প্রশিক্ষণ বুথ বসানো হয়েছে। সেখানে সামরিক পোশাকধারীরা সাধারণ মানুষকে অস্ত্র ধরার নিয়ম, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রাইফেল খোলা ও পুনরায় সংযুক্ত করার কৌশল শেখাচ্ছেন। অনেক নারীও স্বেচ্ছায় অংশ নিচ্ছেন এই প্রশিক্ষণে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে দ্রুত সমঝোতায় না এলে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। তার এমন বক্তব্যের পর থেকেই দেশটিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

আরও পড়ুন:
মাদকের কালো ছোবল: এশিয়া ও বাংলাদেশে কোটি মানুষের আসক্তি, মৃত্যুর ভয়াবহ চিত্র

এরই মধ্যে তেহরানে বড় আকারের যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারপন্থী শত শত মানুষ এতে অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের হাতে ইরানের শীর্ষ নেতাদের ছবি ও বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেকেই জানিয়েছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। এক তরুণী বলেন, বিদেশি হুমকিতে ইরানের জনগণ ভীত নয়; বরং দেশের প্রতিরক্ষা শক্তিকে আরও সুসংগঠিত করতে সবাই ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্রের বুথ দেখা যাচ্ছে। সেখানে সাধারণ মানুষকে অস্ত্র ব্যবহারের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেও নাগরিকদের প্রতিরোধমূলক প্রস্তুতির বিভিন্ন দৃশ্য সম্প্রচার করা হচ্ছে। কয়েকটি টিভি চ্যানেলের উপস্থাপককে সরাসরি সম্প্রচারে রাইফেল হাতে দেখা গেছে।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ সফরে অস্ট্রেলিয়ার নতুন স্কোয়াড ঘোষণা: তিন তারকা পেসার ছাড়া শক্তিশালী দল

বিশ্লেষকদের মতে, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিরোধের মানসিকতা তৈরি এবং জাতীয় ঐক্যের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, এটি ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

© কালবার্তা নিউজ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত