বিড়ালের সাথে মানুষের বন্ধনের গল্প: ইতিহাস যা তুমি জানতেও পারো না

কালবার্তা নিউজ বিশেষ প্রতিবেদন

বিড়াল ও মানুষের বন্ধুত্ব

ছবি: বিড়াল ও মানুষের হাজার বছরের পুরনো সম্পর্কের নতুন তথ্য।

হাজার বছরের রহস্য ভেদ: মানুষ ও বিড়ালের গভীর বন্ধন শুরু হয়েছিল যেভাবে

প্রাণিজগতে মানুষের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ এবং রহস্যময় সঙ্গী হিসেবে বিড়ালের অবস্থান সবার উপরে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আমাদের ঘরে এদের বিচরণ থাকলেও, বিড়াল ঠিক কবে এবং কোথায় মানুষের বন্ধু হতে শুরু করেছিল, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে বিতর্ক ছিল। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে এই সম্পর্কের এক চমকপ্রদ ইতিহাস।

লেভান্ট নয়, উত্তর আফ্রিকাই আদি উৎস

দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করা হতো যে, লেভান্ট অঞ্চলে প্রথম বিড়াল পোষ মানানো শুরু হয়। তবে Science and Cell Genomics জার্নালে প্রকাশিত নতুন গবেষণাটি এই ধারণাকে আমূল বদলে দিয়েছে। আধুনিক জিনতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মানুষের সাথে বিড়ালের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক শুরু হয়েছে মাত্র ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ বছর আগে এবং এর মূল কেন্দ্র ছিল উত্তর আফ্রিকা

প্রাচীন মিশরে বিড়ালের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। সেখানে বিড়ালকে কেবল প্রাণী হিসেবে নয়, বরং দেবতার প্রতীক হিসেবে পূজা করা হতো। শিল্পকর্মে তাদের অমর করে রাখা এবং সম্মানার্থে মমি হিসেবে সংরক্ষণ করার প্রথা প্রমাণ করে যে, সেই সময় থেকেই তারা মানুষের পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিল।

সিল্ক রোড থেকে সারাবিশ্বে বিস্তার

মিশর থেকে এই বন্ধন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে পুরো পৃথিবীতে। রোমান যোদ্ধাদের হাত ধরে বিড়াল প্রথম ইউরোপে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে প্রাচীন বাণিজ্যিক পথ বা ‘সিল্ক রোড’ ধরে তারা চীনে পৌঁছায়। বিড়ালের এই বিশ্বজয়ের গল্পটি সত্যিই বিস্ময়কর। আজ অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া পৃথিবীর প্রতিটি মহাদেশেই বিড়ালের সরব উপস্থিতি দেখা যায়।

বেঙ্গল বিড়ালের চমকপ্রদ তথ্য

বিবর্তনের এই যাত্রায় সব বিড়াল কিন্তু মানুষের বন্ধু হয়নি। যেমন এশীয় বন্য চিতাবাঘগুলো কখনোই গৃহপালিত হয়নি, তারা আজও স্বাধীনভাবে প্রকৃতির মাঝে বাস করে। তবে বিংশ শতাব্দীতে বিড়ালের নতুন জাত তৈরির প্রচেষ্টা শুরু হয়। ১৯৪০-৮০ এর দশকে বন্য চিতাবাঘের সাথে গৃহপালিত বিড়ালের সংকরায়ণ করে তৈরি করা হয় বিখ্যাত ‘বেঙ্গল বিড়াল’, যা বর্তমানে একটি জনপ্রিয় ও স্বীকৃত জাত।

বিজ্ঞানীদের মতে, বিড়াল এবং মানুষের এই সম্পর্ক কেবল সময়ের সাথে মজবুতই হয়নি, বরং এটি প্রাণিজগতের ইতিহাসে একটি বিরল উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিড়ালের স্বাধীন স্বভাব আর মানুষের প্রতি তাদের ভালোবাসা আজও গবেষকদের মুগ্ধ করে চলেছে।

— সত্যের সন্ধানে কালবার্তা নিউজ