যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ছাড়ায় বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচিতে কতটা ঝুঁকি?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ছাড়ায় বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচিতে কতটা ঝুঁকি?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রত্যাহারের পর বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে টিকাদান কর্মসূচি, সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি স্বাস্থ্য সেবায় সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই ডব্লিউএইচওর অন্যতম বড় অর্থদাতা ছিল। কিন্তু দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর নির্বাহী আদেশে সংস্থাটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেন, যা আইনি প্রক্রিয়া শেষে সম্প্রতি কার্যকর হয়েছে। এর আগেই প্রায় এক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ডব্লিউএইচওতে তহবিল দেওয়া বন্ধ করে দেয়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের অধিকাংশ সাফল্যের পেছনেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বড় অবদান রয়েছে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি, সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, ইমার্জেন্সি রেসপন্স এবং ল্যাবরেটরি সাপোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো ইতোমধ্যেই বাজেট সংকোচনের প্রভাব অনুভব করতে শুরু করেছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ কোটি শিশুকে বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হয়, যেখানে ডব্লিউএইচওর সহায়তায় গ্যাভির মাধ্যমে টিকা সরবরাহ করা হয়েছিল। এর আগে জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

কোভিড-১৯ মহামারির সময় দ্রুত ভ্যাকসিন প্রাপ্তি, মহামারি মোকাবিলার গাইডলাইন এবং প্রস্তুতি পরিকল্পনায়ও বাংলাদেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছ থেকে ব্যাপক সহায়তা পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সহায়তা কমে গেলে ভবিষ্যতে যেকোনো স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক বে-নজির আহমেদ বলেন, প্রায় পাঁচ দশক ধরে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে ডব্লিউএইচওর অবদান রয়েছে। তহবিল সংকটে এসব কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হলে আগে নির্মূল হওয়া রোগ আবার ফিরে আসার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সম্ভাব্য এই সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক দলগুলোকে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে। ভবিষ্যৎ সরকারকে স্বাস্থ্য খাতে অভ্যন্তরীণ বরাদ্দ বাড়ানো এবং বিকল্প আন্তর্জাতিক অর্থায়নের পথ খুঁজতে হবে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য স্বাস্থ্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে এবং রোগ পর্যবেক্ষণ ও প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় তারা বৈশ্বিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। তবে ডব্লিউএইচও থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়া বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

কালবার্তা নিউজ